পা ফাঁটা থেকে বাঁচতে শিখে নিন দুর্দান্ত কিছু উপায়

শীতে পা ফেটেছে, উপায় কি?

পা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতই গুরুত্বপূর্ণ! পায়ের উপর ভর করেই আমরা পৃথিবী ঘুরি। শীত মৌসুম এলেই পা তার জৌলুস হারাতে শুরু করে! কারো কারো তো পায়ের গোড়ালি ফেটে চৌচির হয়ে যায়! এ সমস্যায় নারী-পুরুষ উভয়েই আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই বিব্রতকর সমস্যা ক্রাকডহিল বলে পরিচিত।
এ সময় পায়ের প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন! পা ফাটলে আপনার সৌন্দর্য মলিন হয় তেমনি আপনার ব্যক্তিত্বেও তা প্রভাব ফেলে! লোকে দেখলে ভাবে এই ব্যক্তি আসলে অলস এবং পায়ের যত্ন নেয় না!
পায়ের নিচের অংশ সাধারণত অন্য অংশ থেকে বেশি রুক্ষ এবং শুষ্ক হয়। কারণ এখানে কোন তৈলগ্রন্থি নাই! শীতের শুষ্ক হাওয়া শরীর থেকে সব পানির অণু টেনে নিতে থাকে। পায়ের ক্ষেত্রে এমনিতেই আর্দ্রতা কম থাকে তারপর আবার সেই কিঞ্চিৎ আর্দ্রতা, তাও যদি টেনে নেয়, তাহলে তা আরো বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। আর পায়ের গোড়ালিতে সবথেকে বেশি চাপ পড়ে। ফলে পা ফেটে যায়।
আর পা ফেটে রক্তও বের হয় কারো কারো! পা ফাটার যন্ত্রণা কি তা ভুক্তভোগীর চেয়ে কেউ বেশি জানে না!

পা ফাটলে কিভাবে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় আর শীত মৌসুমে পা যাতে না ফাটে তার জন্য কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো।

প্রতিরোধ

★পা কে সুন্দর রাখতে এই শীতে, ঘরের বাইরে পায়ের পাতা ঢাকা নরম জুতা ব্যবহার করা যেতে পারে। আর গৃহের অভ্যন্তরে নরম স্যান্ডেল পরুন।
★পা ধোয়ার সময় সহনীয় মাত্রার গরম পানি ব্যবহার করুন।
★নিয়মিত পায়ের যত্ন নিন। সুন্দর করে সময় দিয়ে পা পরিষ্কার করুন।
★খালি পায়ে বাইরে বের হওয়া চলবে না।
★রাতে ঘুমাবার আগে পায়ে সরিষার বা নারিকেল তেল বা গ্লিসারিন বা লোশন লাগাতে পারেন। মোজা পরতে পারেন। যাতে পায়ে ঠাণ্ডা না লাগে আর আর্দ্রতা না হারায়!

প্রতিকার
যদি পা ফেটে গিয়ে থাকে, তবে তার জন্য কেমিক্যাল ক্রিম ব্যবহার করলে দ্রুত সারবে। কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অনেকে নাজেহাল হয়ে পড়তে পারেন। ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিজেরাই করতে পারেন এর সমাধান।
★নারকেল তেল/ সরিষার তেল
রাতে ঘুমানোর আগে নারিকেল তেল ভালকরে ম্যাসাজ করতে হবে ফাটা জায়গা এবং সমস্ত পায়ের তলা এবং ফাটা প্রবণ অঞ্চল। সর্দি বা ঠাণ্ডার সমস্যাে যাদের তারা সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন। তারপর সুতির মোজা পরে সুয়ে পড়ুন। সকালে ধুয়ে ফেলবেন। এভাবে নিয়মিত করুন। এতে পায়ের মরাকোষ অপসারিত হয়ে শুষ্কতা দূর হয়ে পা নরম হবে আর ফাটা সেরে যাবে।
★লেবু
শুধু ভ্যাসলিন ব্যবহার না করে তার সাথে লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন।
রাতে, পায়ে এই মিশ্রণ লাগানোর পূর্বে গরম পানিতে ১০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। তারপর পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাসলিনে(১ চামচে কয়েক ফোটা)লেবুর রস নিয়ে মিশিয়ে ফাটা প্রবণ অঞ্চলে লাগান। তারপর উলের মোজা পরে ঘুমান। সকালে সুন্দর করে ধুয়ে ফেলুন।
পা ফাটা বেশি হলে লেবু ব্যবহারে যন্ত্রণা হতে পারে!
★জলপাই তেল/ অলিভ অয়েল
পায়ের ফাটা স্থানসহ পায়ের সব জায়গায় অলিভ অয়েল ভালকরে ম্যাসেজ করে লাগান। তারপর সুতির মোজা পরে থাকুন।ঘণ্টা খানেক পরে ধুয়ে ফেলুন। ভাল ফল পেতে সপ্তাহে চারদিন করুন।জলপাই তেল দারুণ কার্যকরী একটি উপাদান।

★মধু
মধু প্রাচীনতম ঔষধিদ্রব্য! এর প্রভাবে পা নরম, কোমল, আর্দ্র থাকবে। পরিমাণ মতো গরম পানিতে আধা কাপ মধু মেশান। তারপর তারমধ্যে পা ডুবিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। এভাবে নিয়মিত প্রয়োজন অনুসারে করুন।

★ গ্লিসারিন ও গোলাপ জল
গ্লিসারিনের সাথে গোলাপজলের মিশ্রণ পা ফাটা দূর করতে দারুণ একটি উপকরণ! গোলাপ জলে রয়েছে ভিটামিন এ, বি-৩, ডি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট! যা পায়ের ত্বকে পুষ্টি সরবরাহ করে। আর গ্লিসারিন ত্বককে মসৃণ, নরম, আর্দ্র রাখে।
সমপরিমাণ এ দুটোর মিশ্রণ নিয়ে পায়ে লাগিয়ে শুয়ে পড়ুন আর সকালে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনদিন এমনটি করুন।
আশা করা যায় পা তার সৌন্দর্য ফিরে পাবে।
আপনার ইচ্ছে মতো যে কোন মিশ্রণটি বা উপাদানটি ব্যবহার করতে পারেন। শীতের শুষ্কতা থেকে সতেজ, সুন্দর থাকুন।


লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You may also like